দিনলিপিঃ ২৭ জুলাই ২০২০

দিনলিপিঃ ২৭ জুলাই ২০২০

ঠিক একমাস আগের একটা গল্প বলি..

ঘুম থেকে দেরি করে উঠা হতো তখন প্রায়ই। বেশ শান্তিতেই থাকা হতো। ওয়েব সিরিজ, মুভি, গেইম, বই, প্রেম সব মিলিয়ে। জেগে উঠার পরে দৈনন্দিন কাজের হিসেব অনুসারে গোসল করে খেয়ে নেয়া। খেয়ে নেয়ার ঠিক পরেই প্রেমিকার মেসেজ! সে বরিশালের একটা জায়গায় আমার জন্য অপেক্ষা করছে। প্রথমত, বেশ মজা পেয়েছিলাম কথাটা শুনে। কারণ, এর আগেরদিনই রাতে অনেকবার সে দেখা করতে চেয়েছে! করোনার কারণে আমি সরাসরি না করে দেই এই সময়ে বরিশাল আসতে। এবং পুরোপুরি ওয়ার্নিং দেয়া হয়, এই সময়ে যেনো এমন চিন্তা মাথাতেও না আনে। কুরবানীর ঈদের পরে দ্বিতীয়বার দেখা হবে বলে দেই। ওহ হ্যা, প্রথম দেখাটাও গত মাসেই ছিলো। ৯ই জুলাই। এরপরে কিছুদিন যেতে না যেতেই তার নাকি আমাকে আবারও দেখতে ইচ্ছা করছে। সে যাই হোক, সেই ইচ্ছেটা দমিয়ে দিয়েছি করোনার পরিস্থিতির জন্য। এই কারণেই মজা পেয়েছিলাম, যে সে নিশ্চয় মজা করছে আমার সাথে!

কিন্তু খানিক বাদেই দেখলাম, মেসেঞ্জারে ছবি পাঠালো। তখন আমার মাথা রাগে আগুন। আমি বললাম, “এই সময়ে আসতে না করেছি, কেনো এলেন?” সে বললো, গিয়ে যেনো রাগ দেখাই তাকে।কোনো সমস্যা নেই। তবুও যেনো একটু আসি। আমি বলে দিলাম, “দেখা করা সম্ভব না।” সে যেহেতু আমার কথা না শুনে রিক্স নিয়ে এতোদূর এসেছে, সুতরাং আমি দেখা করবোনা। এরপরেও যাওয়া হলো, কারণ ওইযে টান!! এতোদূর থেকে এসেছে, চলে যেতে বলি কি করে! তো আমি তাড়াহুড়ো করে চলে গেলাম সেখানে।

গিয়ে দেখলাম, সে দাঁড়িয়ে হাঁটছে অস্থিরতায়। অস্থিরতা নয় ঠিক, ভয়ে! কারণ সে জানে, আমি রেগে যাবো। হাত দুটো বুকে ভাঁজ করে রেখে এদিক ওদিক হাঁটছে তখনও। আমার আসার পথের দিকে চেয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। এবং কাছে যাওয়ার পরে চোখ নামিয়ে ফেললো।

সব ঘটনাগুলো শুনলাম। তার মায়ের সাথে ঝগড়া হয়েছে। তার মা তাকে সরাসরি বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেছে, নয়ত তার মা-ই বাসা ছেড়ে দেবে। তো তার আর আশেপাশে যাওয়ার জায়গা না থাকায় সে আমার কাছে চলে এলো, দেখা করতে। প্রথমে অনেকটা সময় রাগ দেখিয়ে গেলেও, পরবর্তীতে থেমে গিয়েছি। দেখলাম, সে চোখ নামিয়ে কথাগুলো আমাকে বলছে, কেঁদে কেঁদে। তার কান্না থামিয়ে তাকে হাসাতে শুরু করলাম। আমার রাগের সময়টা বেশি না। বুঝালেই বুঝি, আর না বুঝাতে পারলে আরও রেগে যাই কিংবা রিএক্ট করি। আর নিজের ভেতর যাই চলুক না চলুক, প্রিয় মানুষগুলোকে হাসানোর চেষ্টা সবসময় থাকে আমার। বুঝালাম যে রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে আসাটা একদমই ঠিক নয়। এরকম যেনো আর না হয়। সে কথা দিলো আর হবেনা। আর এমন ভুল সে করবেনা। আমার অনেক আচরণেই তাকে আমি বুঝিয়ে দিয়েছি যে কাজটা ভুল, এবং আমার একদমই পছন্দ হয়নি। সে যাই হোক, হাসানোর সেই হেবিটটায় আসি এবার।

তো, আমাদের সামনে থেকে কিছু মেয়ে হেঁটে যাচ্ছিলো। তাকে বললাম, “দেখোতো, পছন্দ হয়?” বললো, “কেনো?” আমি বললাম, “পছন্দ হলে প্রপোজ করে দেই, মেয়েটা তো সুন্দর। পরীর মতো দেখতে।” এভাবে বেশ অনেকটা সময় তার মনটাকে করে দেয়ার প্রচেষ্টা চলে আমার। এবং সেটা সফল। দেখলাম যে, কষ্ট ছেড়ে সে এবার অভিমান নিয়ে বসে আছে।

এই অভিমান দেখতে দেখতেই বৃষ্টি নামে আকাশ থেকে। ভেজা হয় সেই বৃষ্টিতে আমাদের। সন্ধ্যা ৬ টার দিকে তাকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। গাড়িটা ছাড়ার কিছু মুহুর্ত আগে সে আমার কাছে আমার হাত চায়। হাতটা দেয়ার পরে দেখলাম একটা আংটি! আমি বললাম, “এটা আমি এখন নিতে পারবোনা। সময় আসুক!” তবে তার মন খারাপ এবং সবকিছু দেখার পরে নিয়ে নিলাম। বললো, “আমি তো বুঝিনি কোনটা আনলে আঙ্গুলে লাগবে, তাই আন্দাজেই নিয়ে এসেছি।” আমি বললাম, “ঠিকাছে সমস্যা নেই।” গাড়িটা ছাড়ার আগে আগে সে আমাকে জানালো, “তোমার তো অনেক রাগ। না করার পরেও যে চলে এলাম, আমি বাসায় সবার পরে এটার জন্য প্লিজ আর রাগ দেখাবানা।” আমি বললাম, “অবশ্যই দেখাবো।”, ” কাজটা একদমই ঠিক হয়নি।” এভাবেই শেষ হয় দিনটা।

ওইদিনের প্রথম সময়টাতে আমি যখন তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে। আর, শেষ সময়টাতে সে যখন চলে যাচ্ছে তখন আমি তার দিকে তাকিয়ে। ভাবিনি, ওটাই শেষ দেখা হতে যাচ্ছে। ভাবিনি, একমাসেরও আগেই বদলে যেতে নিচ্ছে আমার জীবনটা। বাট হ্যা, ইটস ওভার!!

আমি কখনোই কোনো জিনিস আমার লাইফে পার্মানেন্ট না হলে শেয়ার করিনা। মূলত, এতোদিন শেয়ার করিনি কারণ সে আমার জীবনে পার্মানেন্ট ছিলোনা! আর এখন শেয়ার করছি সেটার কারণ, সে আর কখনো আমার জীবনে পার্মানেন্ট হবেনা।

তবে হ্যা, এই “ছিলোনা” আর “হবেনা”-এর মাঝের সময়টা এতো স্বল্প হবে আগে বুঝিনি।

ভালো থাকুক!

দিনলিপিঃ ২৭ জুলাই ২০২০

শেয়ার করুনFacebookTwitterWhatsApp
লিখেছেন
সিয়াম মেহরাফ
আলোচনায় যোগ দিন

সিয়াম মেহরাফ

সিয়াম মেহরাফ

সিয়াম মেহরাফ একজন লেখক এবং গল্পকথক। তার বর্তমান মৌলিক বইয়ের সংখ্যা দুইটি। লেখালিখির পাশাপাশি অভিনয়ও তার আরেকটি প্যাশন।

নোটঃ

এই ওয়েবসাইটটির সকল ছবি, লেখা এবং ভিডিও সিয়াম মেহরাফ দ্বারা সংরক্ষিত। ওয়েবসাইটটির কোনো তথ্য ক্রেডিট কিংবা কার্টেসি ছাড়া কপি না করার অনুরোধ রইলো।

error: